বসন্ত এলেই বাওয়ার বার্ড বা নিকুঞ্জ পাখিদের মন নেচে ওঠে। এসময় পুরুষ নিকুঞ্জ পাখিরা অপেক্ষায় থাকে তার নারী সঙ্গীর জন্য। এজন্য তারা মনে মাধুরী মিশিয়ে তৈরি করে বাসর ঘর।

কখনো কোকিল, কখনো টিয়ার মতো ডেকে নিকুঞ্জ পাখি চেষ্টা করে স্ত্রী নিকুঞ্জ পাখিটির দৃষ্টি আক’র্ষণের। অন্য পাখির স্বর নকল ক'রতে তারা ওস্তাদ।

মেয়ে পাখিটির কাছে গেছে সেই আ'হ্বান। তবে এমনি এমনি সারা দিবে না সে। পুরুষ পাখিটি তাকে ডেকে যাচ্ছে। অচিরেই শুরু হবে রূপকথার মতো স্বামী বেছে নেয়ার প্রতিযোগিতা। যে পুরুষ সবচেয়ে সুন্দর করে বাসা বানাতে পারবে, মেয়ে পাখিটি হবে তারই।

এই পুরুষ পাখিটি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে। আগেই মাটিতে খড়কুটো আর ভা'ঙা ডাল দিয়ে তাবু আকৃতির ঘর বানিয়ে রেখেছিল। এখন দরকার ঘরটাকে নান্দনিকভাবে সাজানো।

কখনো লাল, নীল, আবার কখনো বীজ, শুকনো পাতা সংরক্ষণ করে সে ঘরে নিয়ে এসেছে। সংগ্রহ করেছে অর্কিড ফুলও। এমনকি মানুষের ফে'লে দেয়া প্লাস্টিকের পাইপ, কাপড়ও আছে তার সংগ্রহে।

এমন এক মাটি সংগ্রহ করে বাসায় এনে রেখেছে রাত পোহালেই যেখান থেকে বের হবে হালকা নীলচে ব্যাঙের ছাতা। নিকুঞ্জ পাখির মতো এত সুন্দর করে বাসা আর কোনো পাখি বানায় না।

যদি কোনো স্ত্রী পাখির বাসর ঘর পছন্দও হয় তবুও সে খানিকটা সংশয়ে ভুগে। যাবো কি যাবো না? এদিকে পুরুষ পাখিটি তাকে ভোলাতে মরিয়া হয়ে ওঠে। ঠোঁটে করে ফুল এনে বলে, সঙ্গী দেখো, কি নিয়ে এসেছি তোমা'র জন্য। ধ'রা দেও, প্রিয়তমা।

অবশেষে স্ত্রী পাখিটির মন গলে। পুরুষ পাখিটি তার জন্য বাসা সাজিয়ে রেখেছে। লজ্জা পাওয়া নতুন বউয়ের মতো পুরুষ পাখির স'ঙ্গে ধীর পায়ে সে ঘরে ঢুকে। এখানে তাদের দাম্পত্য জীবন শুরু হবে এক মি'লনের মাধ্যমে।