গৃহসজ্জার ক্ষেত্রে অন্যতম গু’রুত্বপূর্ণ একটি আসবাব হচ্ছে খাট। ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে এর ভূমিকা অ’পরিসীম। তবে খাট কেনার আগে কিছু বিষয় মা’থায় না রাখলে পড়তে হবে বি’পদে।

বিশেষ করে যাদের নতুন সংসার তাদের খাট কেনার আগে চারটি বিষয় অবশ্যই মা’থায় রাখা জ’রুরি। কারণ বি’ছানা যদি হয় বেঢপ, তাহলে ঘরের সৌন্দর্য শেষ হয়ে যায় অনেকটা। তাই আসুন জে’নে নেয়া যাক খাট বাছাইয়ের সময় কোন বিষয়গুলো মা’থায় রাখলে, ঘরের সৌন্দর্য বেড়ে যাবে। মনে রাখবেন শুধু আরাম’দায়ক বি’ছানাতেই যে ঘুম আসবে তা না, ছিমছাম আর সুন্দর করে সাজানো ঘরও মনের শান্তির জন্য প্রয়োজন।

বেডরুমের আ’কার- ভাড়া বাসার ক্ষেত্রে অনেকসময় ঘরের সঠিক মাপ জা’না সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে আপনার ঘরের দৈর্ঘ-প্রস্থ ফিতা দিয়ে মেপে নিন। এক্ষেত্রে দৈর্ঘ-প্রস্থের পাশাপাশি ঘরের দরজার মাপও জে’নে রাখা ভালো। ঘরের জা’নালা, লাইট, অন্যান্য আসবাব, বাথরুম বা বারান্দার দরজা থাকলে তার অব’স্থান ইত্যাদি বিবেচনা করে বি’ছানার জায়গা নির্ধারন করুন। এমনভাবে বি’ছানা রাখবেন না, যেন আপনার ঘরের মধ্যে হাঁটাচলায় অ’সুবিধা সৃষ্টি হয়।

ঘরের মধ্যে আলো-বাতাস চলাচল ও হাঁটাচলার স’মস্যা সৃষ্টি করলে হাজার ইচ্ছা থাকলেও কুইন সাইজ বেড কেনা ঠিক হবে না আপনার। তাছাড়া বড় বি’ছানা রেখে ঘরে বদ্ধভাব আ’সলে আপনি মা’নসিকভা’বে শান্তি পাবেন না। ভাড়া বাসার ক্ষেত্রে খুব দামি আসবাব না কিনে সহ’জে বদলে ফেলা যায় এমন আসবাব বাছাই করুন।

ঘরের অন্য আসবাব ব্যবহারের সুবিধা- ঘরের মধ্যে দেখা যায় বি’ছানা ছাড়াও আলমা’রি, কাপবোর্ড, বুকশেলফ, রেক, ড্রেসিং টেবিল, কনসোল, টেবিল-চেয়ার ইত্যাদি নানা ধ’রনের আসবাব থাকে। এগুলো আগে ঘরের বিভিন্ন জায়গায় রাখু’ন। তারপর যেখানে বি’ছানা রাখতে চান,

তেমন একটা দিক বাছাই করে চারদিকে চারটা বোতল বা অন্য কিছু রাখু’ন। আবার বি’ছানার আ’কারে মেঝেতে পেইন্টার টেপ লা’গাতে পারেন। এবার ঘরের মধ্যে হাঁটাচলা, আলমা’রি খোলা, ড্রেসিং টেবিলে কাজ করা ইত্যাদি করে দেখু’ন বি’ছানার আ’কারে কোনো স’মস্যা হয় কিনা। যে আ’কারের বি’ছানায় সবচেয়ে সহ’জে হাঁটাচলা ক’রতে পারবেন, সেটি বেছে নিন আপনার ঘরের জন্য।

ঘরের অন্যান্য আসবাবের স’ঙ্গে আ’কারের সমন্বয়- আপনার ঘরে ইতোমধ্যে একটা আলমা’রি ও অন্যান্য আসবাব আছে। এখন আপনার আরো একটা আলমা’রি না হলেই নয়। সেক্ষেত্রে ওই আলমা’রি কোথায় রাখবেন সেটি বিবেচনা করে বি’ছানার আ’কার নির্ধারন করুন। ঘরভর্তি আসবাব বা হাঁটতে চলতে বাঁ’ধা পাওয়ার থেকে তুলনামূলক ছোট বি’ছানা কেনা ভালো।

বড় বি’ছানা নাকি আরাম’দায়ক ঘর- আপনি কেমন ঘরে বাস ক’রতে চান, সেটি নির্ভর করে একেকজনের ব্য’ক্তিগত ইচ্ছা ও রুচির উপর। খোলামেলা পরিবেশ পছন্দ করলে আপনাকে অবশ্যই বড় খাটের মায়া ত্যা’গ ক’রতে হবে। আবার আপনি খোলামেলা ঘরও পছন্দ করেন, বড় বি’ছানাও পছন্দ করেন কিন্তু সেই অনুযায়ী ঘর ভাড়া করার বা কেনার সাম’র্থ্য আপনার নাই। সেক্ষেত্রে সমাধান মিলতে পারে নিচু বি’ছানায় অথবা ফ্লোর ম্যাট্রেসে।

এক্ষেত্রে ঘর খোলামেলা লাগবে দে’খতে। আবার হাঁটতে চলতে ব্য’থা পাওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়। তাছাড়া এখন একের ভেতরে দুই ডিজাইনের আসবাবও পাওয়া যায়। সারাদিন গুঁটিয়ে রাখলেন সোফা বা ডিভান হিসেবে, রাতে খু’লে দিলে বড় বি’ছানা হয়ে গেল, এমন আসবাবেও মিলতে পারে সমাধান।

দিনের শেষে ঘরে ফি’রে আসি আরামের জন্য। এখানেই আম’রা বিশ্রাম নেই, কাজ করি, সময় কা’টাই। তাই ঘর সাজানোর সময় শুধু শোয়ার বিষয়টি মা’থায় না রেখে প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখলে আপনার ঘরটিও হবে ছবির মত সুন্দর ও আরাম’দায়ক। ঘরের মাপ অনুযায়ী আসবাব রাখার জায়গা নির্ধারন করে এমন অনেক ওয়েবসাইট আছে। সেগুলোর সাহায্যে আপনার ঘরের আসবাব এদিক সেদিক রেখে দে’খতে পারেন কোন দিকে সবচেয়ে ভালো লাগবে। তারপর আসবাব কিনুন ও সাজিয়ে ফেলুন আপনার গৃহকোন।